বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ পড়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত ও ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি সংহতি রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া এক চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে সে সময় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে এটি বড় পরিসরে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাসপোর্টের বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে একাধিক বৈঠক করেছে। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই পরিবর্তনের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পাসপোর্ট মুদ্রণ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) পরিষেবা চালু হয়। ওই সময় পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের প্রচলিত পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ’। ই-পাসপোর্ট থেকে এটি বাদ পড়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন মহল থেকে লেখাটি পুনর্বহালের দাবি উঠে আসছিল।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রিন্ট হওয়া নতুন পাসপোর্টে এই শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আপাতত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া নতুন ডিজাইনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের ছবি, দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও নিদর্শনের জলছাপ যুক্ত করা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে। সেই সঙ্গে পাসপোর্টের পাতার জলছাপে আরও যুক্ত হচ্ছে বঙ্গভবন, জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, আমবাগান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি ও নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরীর ছবি। বর্তমানে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নৌকাসহ একটি ছবিও পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বাদ পড়ছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি।
তবে আগের সংস্করণ থেকে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল পাখি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সোনালি আঁশ পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’ অপরিবর্তিত থাকছে।