বিশ্লেষণ
আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিজের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একপ্রকার বাধ্য করেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘ দুই দশকের ক্ষমতায় নেতানিয়াহুর মূল আকর্ষণ ছিল ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রে’র শর্তহীন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই নিশ্চয়তা হুমকির মুখে পড়ে যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সীমানায় প্রবেশ করে আল কাসসাম ব্রিগেড এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। এ ঘটনার পর তেল আবিবের ‘নিরাপত্তা নীতি’ নতুন করে ঢেলে সাজান নেতানিয়াহু, ফলে এখন থেকে কোনো হুমকি গজিয়ে উঠার আগেই তা নির্মূলের নির্দেশ দেওয়া হয় দেশটির গোয়েন্দা, নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীকে।
গাজা যুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠলে আরও বিপাকে পড়েন নেতানিয়াহু। ফলে ইরানকে নির্মূলে ২০১৪ সালের ১৩ জুন ১২ দিনের এক সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে জড়ায় তেল আবিব। মূলত, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন অজুহাতে দেশটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এর মধ্যেই গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন বহাল থাকে।
একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ইসরায়েলি ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অতিক্রম করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানপন্থী প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহকে ধ্বংসের অজুহাতে দেশটির অন্তত ২০ শতাংশ ভূমি দখল করে আইডিএফ। এর মধ্যেই, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র সিরিয়ায় কুখ্যাত স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের পতনের পর দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর চূড়ান্ত আঘাত করে তেল আবিব। একই সঙ্গে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যকার গোলান মালভূমিতে থাকা জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনও দখল করে নেয় ইসরায়েলি সেনারা।
চলমান এসব হুমকি নিশ্চিহ্নে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস ও দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশটির ওপর ভয়াবহ হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ৪০ দিনের বিরামহীন আক্রমণের পর, ইরানের প্রতিরোধের মুখে একপ্রকার বাধ্য হয়ে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন। পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির লক্ষ্যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সেখানে অবিলম্বে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হলেও, তা মানতে নারাজ ইসরায়েল। পরে ট্রাম্পের চাপের মুখে লেবাননে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানালেও, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেল আবিব।
ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে যতবারই লেবাননে আগ্রাসন বন্ধের কথা বলে আসছে, ততবারই নতুন করে দেশটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো ও গ্রেটার ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেছে। এমনকি এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব রাজনীতিতে পরাশক্তি হিসেবে তেহরানের উত্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বকে চরমভাবে অবহেলা করতে পারে। দেখা গেল, এই যুদ্ধে তেহরান শুধু নিজেদের পরাশক্তিই ভাবছে না, বরং তারা একটি পূর্ণাঙ্গ পরাশক্তির মতো আচরণও দেখিয়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য আরেকটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে গত ৭ জুন ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার কড়া জবাব দেওয়ার কথাও জানায় ইরানি নেতারা। অন্যান্য পরাশক্তিগুলোর মতো মিত্রদের সুরক্ষা প্রদানে ইরানের এমন দৃঢ় অঙ্গীকার যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করে। যার প্রভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ইসরায়েলের ওপর আপাতদৃষ্টিতে কঠোর হওয়ার অভিনয় করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
নেতানিয়াহুর এমন আগ্রাসী আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর ‘কোনো আক্কেলজ্ঞান নেই’। তবে নেতানিয়াহু আসলে খুব ভালো করেই জানেন, তিনি কী করছেন। আর ইরান মূলত লেবাননে হামলার জবাবে ইসরায়েলে হামলা করে বোঝাতে চাইছে, সময় এখন পরিবর্তন হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নতুন কোনো সামরিক অভিযানের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে ইরানের ওপর হামলার আগেও ইসরায়েল তার চিন্তা পরিবর্তন করার সুযোগ পায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সমীরকণকেই মূলত প্রতিরোধ করতে চাইছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
ইসরায়েলি নেতারা বারবারই বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত চুক্তি তারা মানতে বাধ্য নয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্টই জানিয়েছেন, তাদের সেনারা গাজা, সিরিয়া ও লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সরে আসবে না। ফলে লেবাননে সামান্যতম সংঘাতও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে। আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, ইসরায়েলের ন্যূনতম হুমকি গুঁড়িয়ে দেশটির সীমানা সম্প্রসারণ করাই মূলত নেতানিয়াহুর অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন জানান, যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল যতদূর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, সেটাই হবে তার সীমান্ত। নেতানিয়াহু তার বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার বলেছেন, জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের সম্পূর্ণ অঞ্চল এবং জর্ডান উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানান, ইসরায়েলের সীমানা কেবল জর্ডান নদী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সিরিয়া ও লেবাননের দিকেও ইহুদিদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের অধিকার রয়েছে।
বিভিন্ন সময় করা রাজনীতিবিদদের এমন বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়ে আসে যখন চলমান সংঘাত ও পরিস্থিতির পরিণতি বোঝাতে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি জানান, আজ অথবা কাল ইসরায়েলকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এ সময় তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারাকে একজন জিহাদী নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, তার লক্ষ্য হলো জেরুজালেমের একত্রীকরণ, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে না। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার এই সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্রেসিডেন্ট শারা জানান, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার এবং কোনো দেশই তাদের নিজের ভূখণ্ডের সামান্যতম অংশও অন্য কাউকে ছেড়ে দেবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যার প্রথম ধাপে ইসরায়েলকে সম্প্রতি দখল করা সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৭৪ সালের সীমানায় ফিরে যেতে হবে। গোলান ছাড়াও সিরিয়ায় ইসরায়েলের জন্য আরেকটি হুমকি, তুর্কি বাহিনীর উপস্থিতি।
সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, সিরিয়া ও লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তুরস্কের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনারও তুরস্ককে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে, ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিকি জোহার জানান, তুরস্ককে একটি ‘শত্রুরাষ্ট্র’ হিসেবে গণ্য করা উচিত, এটি ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। একই ধরনের ধারণা পোষণ করেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। তিনি শুধু তুরস্কেই থেমে থাকেননি, গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারকে নিয়ে গঠিত একটি নতুন ইসরায়েলবিরোধী জোটের রূপরেখা তুলে ধরেন। আমিচাই-এর মতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পর পাকিস্তান ও তুরস্ক এই অক্ষশক্তির অংশ হয়েছে। কোল বারামা রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিচাই চিকলি জানান, পাকিস্তান ও তুরস্ক হলো ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু। তিনি জানান, তুরস্ক মূলত সিরিয়াকে একটি ‘তুর্কি আশ্রিত রাজ্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। যা ইরানের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের কারণ। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট তুরস্ককে নতুন ইরান বলে মন্তব্য করেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তুরস্কের অভ্যন্তরেও। তুর্কি নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেম গুরদেনিজ জানান, তুর্কি-ইসরায়েলি সংঘাতের প্রথম পর্ব খুব সম্ভবত সিরিয়ার স্থল ও আকাশপথে দেখা যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ‘হর্ন অব আফ্রিকা’তেও স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে তুরস্ক ও ইসরায়েল। সম্প্রতি তুর্কি মিত্র সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি এবং গত ১৫ জুন ইসরায়েলে সোমালিল্যান্ডের দূতাবাস স্থাপন এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরব আমিরাতে ‘আয়রন ডোম’ ও সেনা মোতায়েন তেল আবিব ও আবুধাবির ঘনিষ্ঠতাকে অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অন্যতম শত্রু ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আমিরাতের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের ক্ষমতার লড়াই বেশ প্রকট হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতে আফ্রিকায় আমিরাত বনাম তুরস্ক দ্বন্দ্বে ইসরায়েলের জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল যে আমিরাতের পক্ষ হয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে, তা বেশ স্পষ্টই অনুমেয়। পাশাপাশি, আব্রাহাম অ্যাকর্ডে স্বাক্ষর করা থেকে সৌদি আরবের পিছিয়ে আসাও রিয়াদের ওপর তেল আবিবের ক্ষুব্ধ হওয়ার একটি অজুহাত তৈরি করে। চলতি বছরের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জানান, রিয়াদ সম্প্রতি তুরস্ক ও কাতারের মতো ইসরায়েলবিরোধী শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যারা ইসরায়েলের জন্য অশান্তি ডেকে আনছে।
নিজের অস্তিত্ব রক্ষা ও গ্রেটার ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার এই জটিল সামরিক ও ভূরাজনৈতিক মারপ্যাঁচে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও শর্তহীন মার্কিন মিত্র ইসরায়েল যদি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা হবে ন্যাটোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রথম কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাত, যা যুক্তরাষ্ট্রকে তার ইসরায়েল নীতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, এমনকি সম্ভাব্য এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে গোটা ইউরোপে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠাও অনেকটা নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে, যা ন্যাটো জোটের সম্ভাব্য বিদায়ঘণ্টা বাজাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পাশাপাশি, গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে, ফলে নতুন কোনো স্বার্থকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব বা তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত মাঠে গড়ালে তা পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে টেনে আনবে বলে ধরে নেওয়া যায়। ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের আচরণ, ইসরায়েল-আরব আমিরাত বনাম তুরস্ক এবং সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা হয়তো পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে পরমাণু শক্তিধর ইসরায়েলকে সরাসরি সংঘাতকে একসময় অনিবার্য করে তুলতে পারে। এর প্রস্তুতি এরই মধ্যে নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদরা।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী