ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌর আলিগঞ্জ এলাকায় একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে প্রায় এক ডজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। প্রায় এক ডজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।’
উদ্ধারকর্মীরা জানান, আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কয়েকজন ভবনের ওয়াশরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, ভবনটির মালিক বিরেন্দ্র শুক্লা। তার ছেলে অখিলেশ শুক্লা ভবনে গ্রাফিক্স সেন্টার পরিচালনা করতেন। ঘটনার পর দুজনের কাউকেই ঘটনাস্থল বা নিজ বাসভবনে পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, ভবনের নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও ওপরের তলায় একটি গ্রাফিক অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। তবে ভবনের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দমকল বিভাগ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে আলিগঞ্জ থানার আওতাধীন উষা মেহতা মার্গ এলাকার ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৪টি ফায়ার টেন্ডার, একটি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম যানসহ বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে ১৩ জন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি বলেন, ‘ভবনের ভেতরে এখনও ধোঁয়া রয়েছে। প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, এনডিআরএফ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ‘এখানে একটি লাইব্রেরি বা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি। পাঁচ-ছয়জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি। আগুন লাগার পর একজন ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন।’
ঘটনার পর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নজরে নিয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। তিনি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দুই লাখ রুপি ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, ‘লক্ষ্ণৌর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। উদ্ধার অভিযান চলছে এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে।’
ঘটনার পর ভবনের আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকেও কর্মকর্তাদের উদ্ধার অভিযান পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস