বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন মরিয়ম। গত ২৬ মে ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে রেখে তার চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ঈদের দিন (২৮ মে) ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে দাফনের কয়েকদিন পর ওই ‘কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে’ এমন একটি কথা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিনই কবর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা।
অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
এরপর মৃতের স্বজনরা দাবি করেন, দাফনের পর স্বপ্নে এসে মরিয়ম জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব।’
অন্যদিকে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়ে দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহে পচন ধরেছে, পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ইমাম আবুল কাশেম আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন, তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।’
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, ‘মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে, আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে, কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।’
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। পরে কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমি জানি না।