ভারতে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বাংলার বিশ্বাসঘাতক নবাব মীর জাফরের অন্তত ৩৪৬ জন বংশধর। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় মীর জাফরের পরিবারের এসব সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমন ঘটনায় নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্বাসঘাতক একই নবাব পরিবারের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের তালিকায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পরিবারের সদস্যদের নাম ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিশেষ সংশোধনের পর তাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাড-জুডিকশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়।
‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলি মির্জা জানান, তার পরিবারের ৯ জন সদস্যসহ শতাধিক আত্মীয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা জানান, তাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল, হঠাৎ করে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না।
পরিবারটি দাবি করছে, তাদের পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলী মির্জা দেশভাগের সময় পাকিস্তানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামাত এলাকার কাছে বসবাসকারী এই পরিবার জানায়, একসময় তাদের পূর্বপুরুষরা বিচার করতেন, আর আজ তাদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।