বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজের পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গণিতভিত্তিক বিশ্লেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে আগেভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে পূর্বাভাস দিয়ে সুনাম কুড়ানো এই বিশ্লেষক এবারও বেশ কয়েকটি সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার সবচেয়ে আলোচিত দুটি পূর্বাভাসই ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ক্লেমেন্টের মডেল অনুযায়ী, শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে ব্রাজিল। বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল তারকা নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লেমেন্টকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে লেখেন, ‘মিস্টার জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।’
ব্রাজিলের ম্যাচের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ভেঙে যায় ক্লেমেন্টের সবচেয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণীও। তার পুরো টুর্নামেন্টের পূর্বাভাসে নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেখানো হয়েছিল। মডেল অনুযায়ী, ডাচরা ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে।
কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় শেষ বত্রিশেই। মরক্কোর বিপক্ষে ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। তবে যোগ করা সময়ে ইসা দিয়োপ গোল করে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরান। অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো। আর তাতেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের।
জোয়াকিম ক্লেমেন্ট অবশ্য বরাবরই বলে এসেছেন, তার এই মডেল শতভাগ নির্ভুল নয়। জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, আবহাওয়া, ফুটবল সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংসহ কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে তিনি সম্ভাবনা নির্ণয় করেন। এমনকি তিনি নিজেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন, নকআউট পর্বে ভাগ্য ও অনিশ্চয়তার প্রভাব এত বেশি যে কোনো পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তারপরও টানা তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করার রেকর্ড থাকায় এবারও তার পূর্বাভাস ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে করা তার সবচেয়ে আলোচিত দুটি পূর্বাভাসই মিলল না।