বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি লোহার সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে প্রশাসনের তদন্তে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সেতুর একটি অংশ ভেঙে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি লোহার সেতু নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ রড ব্যবহার ও পাঁচ ইঞ্চি পুরু কংক্রিটের ঢালাই থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ের পুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেতুর একটি অংশ ভেঙে দেখা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক ও উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, ভাঙা অংশে রডের পাশাপাশি বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্মাণমানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সেতুটির ত্রুটিপূর্ণ অংশ আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণমান নিশ্চিত করা এবং তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।