লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা আরেক বোন ইকরা আক্তারও (১৭) মারা গেছেন। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারেরও মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক।
এর আগে একই দিনে শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯) নিহত হয়। নিহতদের বাড়ি মূলত কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। অন্যদিকে নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বাসিন্দা শাহিনুর বেগম দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসাতেই থাকতেন। শাহিনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যদের হত্যার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিন সকালে বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহিনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইকরাকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, অন্তর মজুমদার আগে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি বাসাটিতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
তিনি আরও বলেন, রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে বাসাটিতে দেখে তার সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি পানির পাইপ মেরামত করতে এসেছেন বলে জানান। সন্দেহ হওয়ায় ওই প্রতিবেশী স্থানীয়দের খবর দেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরে গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারও মারা যান।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছেন রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ।