তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।
সোমবার (২৯) বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের উদ্বেগ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
এর আগে তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা-বেইজিংয়ের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নয়াদিল্লি।
গুও জিয়াকুন বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনজীবনভিত্তিক প্রকল্প। চীন এ প্রকল্পে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিময় বাড়াতে চীন প্রস্তুত।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন। উভয়পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে, যা আগের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ইতিবাচক ফল এলে চীন এ প্রকল্পে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীন ইতোমধ্যে তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো নতুন ঘোষণার ওপর ভারত নিবিড় নজর রাখছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না তিস্তা প্রকল্পসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তিতে সই করে, যার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক নামে পরিচিত) খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এ অঞ্চলে বিশেষ করে চীনের উপস্থিতি বা প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরের জন্য নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে।