পূর্বের শেয়ার মালিকদের পুনরায় ব্যাংকের পরিচালনায় ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল যে আইনে, সেই ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাদ দেওয়ার হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে এবারের বাজেট অধিবেশনের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
এদিন অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের বার্তা স্পষ্ট, যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে বর্তমান সরকার। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। ওই ধারায় বলা হয়েছিল, যারা ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় কোনো ব্যাংকের শেয়ারের মালিক ছিলেন, তারা আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ বা দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও সেই সুযোগ দিতে পারবে।
এই ধারা যুক্ত করার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে সরকার এই সুযোগ তৈরি করছে। সেই সঙ্গে এ বিধানকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাতের সংস্কার থেকে সরে আসার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
উল্লেখ্য, এই ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের মাধ্যমে দেশের চরম সমস্যাগ্রস্ত ও তারল্য সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ।
আইন অনুযায়ী, একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বা মালিকরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া মূলধন সহায়তার ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন। বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে।