সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে নামার কিছুক্ষণ পর কিংবা সমুদ্রে গোসলের সময় অনেকেরই হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। বিষয়টি প্রায় সবার ক্ষেত্রেই কমবেশি ঘটে থাকে। কেউ কেউ মনে করেন, আগে বেশি পানি বা চা-কফি খাওয়ার কারণে এমনটা হয়। তবে গবেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ও হরমোনজনিত প্রতিক্রিয়া।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইমার্শন ডাইউরেসিস’। এতে পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করতে শুরু করে। ফলে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির হাইড্রেশন সায়েন্স ল্যাবরেটরির গবেষকদের মতে, পানিতে থাকার সময় শরীরের রক্ত সঞ্চালন, হৃদযন্ত্র ও কিডনির কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন ঘটে। এর পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করে।
প্রথমত, পানির তাপমাত্রা। সুইমিং পুল বা সমুদ্রের পানি সাধারণত শরীরের তুলনায় ঠান্ডা হয়। এই ঠান্ডা পরিবেশে ত্বকের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়, যাতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে হাত-পা থেকে রক্ত সরে শরীরের ভেতরের দিকে, বিশেষ করে বুকের দিকে চলে আসে।
দ্বিতীয়ত, হরমোনের প্রতিক্রিয়া। বুকের দিকে রক্ত ও তরলের চাপ বেড়ে গেলে শরীর সেটিকে অতিরিক্ত তরল হিসেবে ধরে নেয়। তখন মস্তিষ্ক অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন (এডিএইচ) নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা সাধারণত শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
একই সময়ে হৃদযন্ত্র থেকে ‘অ্যাট্রিয়াল ন্যাট্রিইউরেটিক ফ্যাক্টর’ (এএনএফ) নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা কিডনিকে অতিরিক্ত তরল বের করে দিতে নির্দেশ দেয়। এর ফলে কিডনি বেশি পরিমাণে প্রস্রাব উৎপাদন শুরু করে এবং কিছু সময় পর প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়।
গবেষকদের মতে, যারা দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটেন বা নিয়মিত সমুদ্রস্নান করেন, তাদের মধ্যে এ অভিজ্ঞতা বেশি দেখা যায়। পানির তাপমাত্রা যত কম হবে, রক্তনালির সংকোচনও তত বেশি হবে, ফলে প্রস্রাবের বেগও দ্রুত ও বেশি মাত্রায় অনুভূত হতে পারে।