সম্প্রতি নওগাঁ সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকে টানানো হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যানার, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘এখানে রোগের চিকিৎসা করা হয়, মৃত্যুর চিকিৎসা নয়। যারা মৃত্যুর ঝুঁকি মানতে পারবেন না, তারা এই হাসপাতালে আসবেন না।’
এমন বার্তার মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মূলত রোগীদের স্বজনদের সচেতন করতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও সবসময় জীবন রক্ষা সম্ভব হয় না। অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর দোষারোপ, ভাঙচুর কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ব্যানারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এটিকে বাস্তবতার কঠিন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন ভাষাটি আরও সংযত ও মানবিক হতে পারত।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন।
রোগীর গুরুতর অবস্থা আত্মীয়স্বজনকে বিস্তারিত অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন চিকিৎসক। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিত শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। তারা দায়িত্বরত ডা. নাসিরকে বেধড়ক মারতে থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, একপর্যায়ে দরজার কাচ ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তারা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন, সেটা ভেঙে তাকে মারতে মারতে বের করে আনে। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
পুলিশ আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থায় ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।