পাহাড়ের চেয়ে আপন অরুণ কুমার তিওয়ারির কাছে কিছুই ছিল না। গত দুই দশকে কিলিমানজারো, ডেনালি ও কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় সফলভাবে পা রেখেছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের ৫৩ বছর বয়সী এই আইটি কর্মকর্তা। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের, যা গত বছর তাকে একবার ফিরিয়ে দিয়েছিল—মাউন্ট এভারেস্ট।
তাই এভারেস্টের বুকে তার মৃত্যুর পর হিমালয়ের যে কোলে তিনি থাকতে সবচেয়ে ভালোবাসতেন, সেখানেই তাকে রেখে দেওয়া যেন এক অদ্ভুত কাব্যিক ও উপযুক্ত পরিণতি।
অরুণের ভগ্নিপতি সুধীর উপাধ্যায় দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আইটি কর্মকর্তা হিসেবে নিজের কাজকে অরুণ ভালোবাসত। তবে পাহাড়কে ভালোবাসত তার চেয়েও বেশি। সে আর্জেন্টিনা ও রাশিয়ার পাহাড়গুলোতেও অভিযান চালিয়েছিল।
‘গত বছর একবার ব্যর্থ হওয়ার পর এভারেস্ট জয় করার জন্য অরুণ আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ হয়ে ওঠে। এটাই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। আর সেখানেই আমরা তাকে রেখে আসছি।’
অভিযান আয়োজকদের মতে, গত ২১ মে অরুণ যখন চূড়ায় পৌঁছান, তখনই তিনি বেশ দুর্বল ছিলেন। চূড়ার ঠিক নিচে ৮ হাজার ৭৯০ মিটার উচ্চতায় হিলারি স্টেপ নামের খাড়া পাথুরে অঞ্চলে (যা ডেথ জোন নামে পরিচিত) তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
হায়দরাবাদের একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অরুণ ৩০ বছর বয়স থেকে পর্বতারোহণ শুরু করেন।
ভগ্নিপতি সুধীর উপাধ্যায় তাকে একজন সদালাপী, হাসিখুশি এবং পরিবার ও কাজের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
অবশ্য তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না।
সুধীর বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ হলো হিমালয়ের প্রতি অরুণের ভালোবাসা। হিমালয় হলো দেবতা শিবের বাসস্থান। অরুণ এখন শিবের সান্নিধ্যে আছে। পাহাড়ের সঙ্গেই এক হয়ে আছে।’
তবে এই আবেগের পাশাপাশি আরেকটি বড় বাস্তবসম্মত কারণও ছিল; তা হলো উপর থেকে মরদেহ নিচে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া।
সুধীর বলেন, ‘তীব্র বরফের কারণে উদ্ধারকারী দলকে বরফ কেটে কেটে অরুণের মরদেহ বের করতে হতো। মাইনাস ৬৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শরীর জমে এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে, সামান্য আঘাতেই তা ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে, হাড়গোড় ভেঙে যেতে পারে।
‘এরপর দেহটি উদ্ধার করে তা স্লেজ গাড়িতে বেঁধে ক্যাম্প-৪ থেকে ক্যাম্প-১ পর্যন্ত টেনে হিঁচড়ে নামাতে হতো। আমরা চাইনি, তার মরদেহের প্রতি এমন অসম্মান হোক।’