যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরান যুদ্ধের অবসান এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত একটি সূত্র শুক্রবার (২২ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।
গাজা যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে কাতার বরাবরই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে। তবে ইরান যুদ্ধের একপর্যায়ে নিজেদের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তারা মধ্যস্থতা করা থেকে এতদিন দূরে ছিল।
সূত্রটি রয়টার্সকে জানায়, কাতারের মধ্যস্থতাকারী দলটি শুক্রবার তেহরানে অবস্থান করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে গেছে এবং ‘যুদ্ধের অবসান ও ইরানের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে’ সহায়তা করছে।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানই এই যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। কাতারের এই নতুন তৎপরতা ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্র হিসেবে তাদের দীর্ঘদিনের ভূমিকা তুলে ধরে।
একই সঙ্গে এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে দোহার অবস্থানেরই প্রতিফলন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বর্তমানে নড়বড়ে বিরতি চলছে।
শান্তি আলোচনায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি হয়নি, কারণ ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার ফলে আলোচনা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইরানের এক শীর্ষ সূত্র বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানায়, এখনো কোনো চুক্তি হয়নি, তবে মতপার্থক্য কিছুটা কমে এসেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়গুলো মূলত আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
যুদ্ধ চলাকালে কাতারের বেসামরিক অবকাঠামো ও রাস লাফানের গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেই হামলায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, যার সিংহভাগই আসত কাতার থেকে। ইরান এই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।