বাংলাদেশে পুশব্যাক করা (ঠেলে পাঠানো) কিছু ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর তারা ভারতের নাগরিক কি না, তা যাচাই করা হবে। শুক্রবার (২২ মে) সুপ্রিম কোর্টকে এ কথা জানিয়েছে ভারত সরকার।
এক প্রতিবেদনে পিটিআই জানিয়েছে, সোনালি খাতুনসহ অন্যদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্র যে আবেদন জানিয়েছিল, দেশের শীর্ষ আদালতে এদিন তারই শুনানি চলছিল।
কেন্দ্রের পক্ষে হাজির হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান, এই মামলার বিশেষ পরিস্থিতি ও তথ্য বিবেচনা করে এবং এটিকে ভবিষ্যতের অন্য কোনো মামলার জন্য নজির হিসেবে গণ্য না করার শর্তে সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চকে মেহতা বলেন, ‘সরকার তাদের ফিরিয়ে আনবে এবং এরপর তাদের নাগরিকত্বের মর্যাদা পরীক্ষা করে দেখবে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
সরকারের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।
এরপর শীর্ষ আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী জুলাই মাস দিন ধার্য করেন।
২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পুশব্যাক করার কয়েক মাস পর ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে সোনালি খাতুন ও তার ৮ বছরের সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন শীর্ষ আদালত।
সেসময় সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে ওই শিশুর দেখভালের পাশাপাশি বীরভূম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে বিনামূল্যে প্রসবকালীন সেবাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ২৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে শেষ সুযোগ দিয়ে তাদের আইনজীবীকে এই বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জেনে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সোনালি খাতুনের বাবা ভোদু শেখের পক্ষে আদালতে হাজির হওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল ও সঞ্জয় হেগড়ে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে তাদের অবস্থান আদালতকে পরিষ্কার না করায় বিষয়টি ‘কিছুটা অন্যায়’ হচ্ছে।
এর আগে শীর্ষ আদালত তুষার মেহতার সেই বক্তব্য নথিবদ্ধ করেছিলেন, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এবং মামলার আইনি অধিকার ও যুক্তিগুলোর ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে ওই নারী ও তার সন্তানকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তাদের নজরদারিতে রাখা হবে।
ভোদু শেখের অভিযোগ, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিল্লির রোহিনী এলাকার সেক্টর ২৬-এ দিনমজুর হিসেবে কাজ করা এই পরিবারগুলোকে গত বছরের ১৮ জুন পুলিশ ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ধরে নিয়ে যায় এবং ২৭ জুন সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করে।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট সোনালি খাতুন এবং পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা সুইটি বিবি ও তাদের পরিবারকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দেন।
হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুশব্যাক করা ওই ছয় নাগরিককে যেন এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত করা হয়।
একই সঙ্গে এই রায়ের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ চেয়ে সরকারের করা আবেদনটিও খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত।