যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা ঘনিয়ে আসার মুখে এই সুবিধা বাতিলের দাবিতে চাপ অব্যাহত রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই নিয়ম মূলত ‘দাসদের সন্তানদের’ জন্য তৈরি করা হয়েছিল, কোনো চীনা শতকোটিদের জন্য নয়।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বে একমাত্র আমাদের দেশেই এই নিয়ম (জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব) রয়েছে। আপনি আমাদের দেশে পা রাখলেন আর অমনি নাগরিক হয়ে গেলেন। এটি চীনা বিলিয়নিয়ারদের জন্য করা হয়নি, এটি করা হয়েছিল দাসদের সন্তানদের জন্য।’
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই চলমান আইনি লড়াইয়ে বিচারকেরা যদি তার বিপক্ষে রায় দেন, তাহলে তা ‘লজ্জাজনক বিষয়’ হবে বলেও এদিন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের চলতি মেয়াদের সময় শেষ হয়ে আসায় এই মামলার রায় শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সৌজন্যের বাইরে গিয়ে প্রায়ই সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন এবং নিজের মনোনীত বিচারকদের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার খর্ব করার পক্ষে আদালতের সমর্থন চেয়ে তার তৎপরতা পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে আভাস দেন, আদালত হয়তো শেষ পর্যন্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই সাংবিধানিক সুরক্ষাই বজায় রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বড় একটি বিষয়। তারা সম্ভবত আমার বিপক্ষেই রায় দেবে, কারণ এমনটা করতেই তারা পছন্দ করে বলে মনে হয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই আইন যদি বহাল থাকে, তাহলে তা দেশের জন্য ‘অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ ডেকে আনবে।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়নের লক্ষ্যে ট্রাম্পের যে বড় ধরনের অভিবাসন পরিকল্পনা রয়েছে, এই মামলা তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো জানায়নি, তারা কবে এই মামলার রায় ঘোষণা করবে।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচকদের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে সুরক্ষিত। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট এখানে তার নির্বাহী ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।