পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২০০ আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। চমকপ্রদ এই ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করেছে দলটি। দলটির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক অনুমান ছিল ১৮৫টির বেশি আসন পাওয়া, কিন্তু সেই হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে দলটি, যা মোট পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত।
দলীয় সূত্রে বলা হয়, নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ ও পেনশন সংক্রান্ত আশ্বাস ও কেন্দ্রীয় উন্নয়ন, এই বিষয়গুলোই মূলত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে।
১. নারী ভোট
গত মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় নারী সংরক্ষণ বিল এগিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নারী ভোটারদের মধ্যে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘নারীবিরোধী’ অবস্থান রয়েছে, এমন প্রচার জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।
দলীয় সূত্র জানায়, নারী ভোট অন্তত পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের পর রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ছয় কোটি ৪৪ লাখ, যার মধ্যে তিন কোটি ১৬ লাখ নারী ও তিন কোটি ২৮ লাখ পুরুষ ভোটার। ২০২১ সালে নারী ভোটার ছিলেন তিন কোটি ৫৯ লাখ ও পুরুষ ভোটার তিন কোটি ৭৪ লাখ। সেবার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৮.০২ শতাংশ ভোট, বিজেপি ৩৮.১ শতাংশ ও কংগ্রেস ১০ শতাংশ ভোট।
২. সরকারি কর্মচারীদের সমর্থন
দলীয় সূত্রের দাবি, দিল্লির মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। বঞ্চনা ও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর না হওয়াকে ইস্যু হিসেবে দেখেছে তারা।
বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দেন। রাজ্যে প্রায় ২০ থেকে ৫০ লাখ ভোটার এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে বলে বিজেপি সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে সার্ভিস ভোটারের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি।
৩. কেন্দ্রীয় উন্নয়ন ইস্যু
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া ও রাজ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবকে সামনে রেখে ‘মোদি বনাম মমতা’, এমন রাজনৈতিক বার্তা ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এই প্রচারণা মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে। রাজ্যে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ভোটার এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছে। এ ছাড়া ২০-২৯ বছর বয়সী ভোটার প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ।
৪. নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা
নির্বাচনের সময় সহিংসতার ইতিহাস থাকা পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পোস্ট-পোল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি ২০০ কোম্পানি বাহিনী স্ট্রংরুম ও গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় রাখা হয়। দলীয় সূত্র আরও দাবি করা হয়, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার প্রসঙ্গও ভোটারদের প্রভাবিত করেছে।
৫. এসআইআর ও ‘বহিরাগত’ ভোটার ইস্যু
নির্বাচনী তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে বিজেপি ‘শুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করেছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ফলে ‘বহিরাগত’ ভোটারদের সরিয়ে কেবল ‘প্রকৃত ভোটারদের’ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা। এ প্রক্রিয়ায় ২৭ লাখের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ও ২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৩০ লাখের বেশি ভোট পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস