রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এলো এক চাঞ্চল্যকর মোড়। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শুরু থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে সন্দেহ করা হলেও, এবার সরাসরি টিটনের আপন ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের দিকে আঙুল তুলেছেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল। নাগরিক প্রতিদিনের কাছে পাঠানো এক বিশেষ অডিও বার্তায় হেলাল দাবি করেছেন, ইমনই তার শ্যালক টিটনকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর।
অডিও বার্তায় পিচ্চি হেলাল দাবি করেন, জোসেফ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় নন। বর্তমানে মিরপুর থেকে শুরু করে পুরো ঢাকা শহর নিয়ন্ত্রণ করছেন ইমন এবং তার ‘ফোরস্টার গ্রুপ’। তিনি ইমনকে ‘সাইকো’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইমনের চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। টিটনকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে ইমন নিজের পারিবারিক সম্পর্ককেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
পিচ্চি হেলাল নিজেকে নিরাপরাধ দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘বিগত এক মাসে টিটনের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। পুলিশ যদি টিটনের ফোন এবং তার ভাই রিপনের ফোনের কল লিস্ট ফরেনসিক পরীক্ষা করে, তবেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।’ তিনি আরও জানান, টিটন জীবদ্দশায় বিভিন্ন জায়গায় বলে গিয়েছিলেন যে, তার দুলাভাই ইমন তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
হেলালের দাবি অনুযায়ী, টিটনকে মারার পেছনে তার আপন বোন এবং ভগ্নিপতি ইমনের যৌথ পরিকল্পনা ছিল। ইমনের স্ত্রী (টিটনের বোন) এই খুনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইমনের সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখতেই টিটনকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল বলে হেলালের বিশ্বাস।
মামলায় নিজের নাম আসা প্রসঙ্গে পিচ্চি হেলাল বলেন, এজাহারে টিটনের ভাই যাদের নাম দিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটি কথা বলছিল, সে মূলত ইমন গ্রুপের সদস্য। ইমন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার নিজের লোকদের দিয়ে টিটনের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা করিয়েছেন, যাতে প্রকৃত খুনিরা আড়ালে থাকে।
এর আগে তারিক সাঈফ মামুনসহ বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইমনের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন হেলাল। তিনি দাবি করেন, পুলিশের উচিত ইমনের চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং তার ব্যক্তিগত ‘কিলার গ্রুপ’ নিয়ে গভীর তদন্ত করা। তবেই টিটন হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘টিটন হত্যাকাণ্ডে সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। খুব কাছ থেকে করা গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে পিচ্চি হেলালের এই বিস্ফোরক দাবির পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মামলার তদন্তে নতুন করে কোনো মোড় নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।