ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিয়মিত একটি ফ্লাইট চলাকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অ্যান-২৬ বিমানটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রুশ বার্তা সংস্থা তাস ও রিয়া-নভস্তিকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিমানটি একটি খাড়া পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে আছেন বলে মনে হচ্ছে না। তবে বিমানে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা পাখির আঘাতের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেনি।
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। অন্যদিকে অ্যান-২৬ সোভিয়েত আমলের একটি বিমান, যা মূলত সামরিক কাজে ভারী মালামাল ও স্বল্পসংখ্যক যাত্রী স্বল্প থেকে মধ্য দূরত্বে পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এটি ইউক্রেনের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টোনভ তৈরি করেছে। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষ দিক থেকে এই বিমান ব্যবহার হয়ে আসছে, তবে এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
২০২০ সালে খারকিভে একটি ইউক্রেনীয় অ্যান-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বেশির ভাগ ক্যাডেটসহ ২৬ জন নিহত হন। পরের বছর রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে একটি দুর্ঘটনায় ২৮ জন মারা যান এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে আরেকটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন।
এদিকে চার বছর আগে মস্কো পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলমান রয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের আংশিক রুশ নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলের সীমানায় অবস্থিত এই উপদ্বীপে ইউক্রেনীয় হামলাগুলো মূলত রুশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে রাশিয়াকে ক্রিমিয়া থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি শান্তি পরিকল্পনায় কিয়েভ ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে—এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।