নেপালের র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বলেন্দ্র শাহর মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) পার্লামেন্টে মোট ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। খবর: আল-জাজিরার।
গত ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা বা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং ১১০টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।
সরাসরি নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং সমানুপাতিক ভোটে আরও ৫৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে তারা শক্তিশালী ‘দুই-তৃতীয়াংশ’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে মাত্র দুই আসন দূরে রয়েছে।
অন্যদিকে, গত পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৩৮টি আসন। পরাজিত কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মার্ক্সবাদীরা ২৫টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং মাওবাদীরা পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন।
ভট্টরাই বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আজ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী যুব বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। ‘জেন জি’র ব্যানারে এই বিক্ষোভ সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুত তা দুর্নীতি এবং অর্থনীতির বিরুদ্ধে একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
বলেন্দ্র শাহ স্বয়ং চারবারের অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তার নিজের আসনে পরাজিত করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী অলির বিরুদ্ধে এই জয় এবং কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহর এই উত্থান নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।