যে মাঠে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের পথচলা, সেই মাঠেই শেষ হলো এক জীবন্ত কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র।
নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচ শেষেই ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ঘোষণা দেন, দেশের জার্সিতে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’
২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই একই মাঠে শেষ হয়ে গেল তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
সংখ্যার বিচারে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও ছিল অনন্য। ব্রাজিলের হয়ে ১২৯টি ম্যাচে করেছেন ৮০ গোল, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) খেলেছেন তিনি। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন ফুটবল ইভেন্টে দেশটির প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক।
ডান পায়ের কাফের চোট নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে ১৪ মিনিট খেললেও জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি। শেষ ষোলোর ম্যাচেও তাকে শুরুতে বেঞ্চে রাখেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকল চলতি বিশ্বকাপে তার একমাত্র গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮০তম ও শেষ গোল।
তবে সেই গোল ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে।
পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না নেইমারের। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই অশ্রুসিক্ত রাতেই শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক স্বর্ণালি অধ্যায়।