বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে আসেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের পরই তিনি হাঁটু গেড়ে বসে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সতীর্থরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন গাকপো। তবে সেই গোলও শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১ সমতা। এরপর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো।
গাকপোর এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার পেছনে ছিল গভীর ব্যক্তিগত শোক। মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি ও তার সঙ্গী নোয়া ফান ডের বেই জানান, গর্ভাবস্থায় তাদের অনাগত পুত্রসন্তান মারা গেছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় নোয়া লেখেন, ‘ভাঙা হৃদয়ে তারা এই দুঃসংবাদ জানাচ্ছেন। তাদের সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল এলিজাহ রাফায়েল গাকপো।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সে চিরকাল আমাদের ভালোবাসায় থাকবে, চিরকাল আমাদের সন্তান হয়ে থাকবে।’
এত বড় ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও গাকপো জাতীয় দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সব ম্যাচেই তিনি প্রথম একাদশে খেলেছেন এবং মোট তিনটি গোল করেছেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১১৩তম মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয়, তাই টাইব্রেকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি তার।
শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, গাকপোর গোলের পর সতীর্থদের তাকে ঘিরে ধরা এবং অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের আলিঙ্গন ম্যাচের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।