বিশ্বকাপের মঞ্চে স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের একটি প্রজন্ম এমনও আছে, যারা কখনও নিজেদের দলকে নকআউট পর্বে খেলতে দেখেনি। বছরের পর বছর অপেক্ষা, হতাশা আর অপূর্ণ স্বপ্ন বয়ে বেড়ানো সেই সমর্থকদের সামনে এবার ইতিহাস ছোঁয়ার সুযোগ।
ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাই শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো ‘টার্টান আর্মি’। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি স্কটল্যান্ডের জন্য সাধারণ কোনো গ্রুপ ম্যাচ নয়, বরং এটি হতে পারে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দুই ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখনও লড়াইয়ে রয়েছে স্কটিশরা। ব্রাজিলকে হারাতে পারলে নিশ্চিত হবে নকআউট পর্বের টিকিট। এমনকি ড্র করলেও প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোর স্বপ্ন প্রায় বাস্তবে রূপ নেবে। স্কটল্যান্ডের সমর্থক স্টিভি পার্কারের কণ্ঠেও সেই আশার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের খুব কাছাকাছি। মনে হচ্ছে এবার আমরা পারব।’
আরেক সমর্থক ব্রায়ান গুথরি এখনও সতর্ক আশাবাদী। সম্ভাবনার নানা হিসাব কষতে থাকা এই সমর্থক বলেন, ‘আমরা এখনই কিছু নিশ্চিত ধরে নিচ্ছি না, তবে আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন গল্পটি হয়তো ইওয়েন ম্যাকডোনাল্ডের। আর্গিল অ্যান্ড বুটের এই স্কটিশ সমর্থকের জন্মদিনেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। তাই তার স্বপ্নও একটু অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘আমার জন্মদিনেই স্কটল্যান্ড যদি ব্রাজিলকে হারায়, সেটাই হবে জীবনের সেরা দিন।’
শুধু মায়ামিতেই নয়, ম্যাচটিকে ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাজ্যে। বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানোর প্রস্তুতি চলছে বিভিন্ন শহরে। পাব, স্পোর্টস বার ও ফ্যান জোনগুলোও বিশেষ আয়োজন নিয়ে অপেক্ষা করছে ম্যাচ শুরুর।
তবে আবেগ আর স্বপ্নের মাঝেও বাস্তবতা কঠিন। প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, যারা বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল। কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো, এখানে ইতিহাস সবসময় অতীত দেখে লেখা হয় না, অনেক সময় লেখা হয় নতুন করে।
তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে ৯০ মিনিট শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি হতে পারে স্কটল্যান্ডের বহু বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার গল্প। আর সেই কারণেই ম্যাচটি এখন শুধু স্কটল্যান্ড নয়, পুরো গ্রুপের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।