ফিফা বিশ্বকাপে বুধবার ভোরে ঘানার বিপক্ষে ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট খুইয়েছে ইংল্যান্ড। তবে ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনা এখন জুড বেলিংহামকে ঘিরে, বিশেষ করে মাঠে তার আচরণ ও নতুন নিয়মে তার সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর মাঠ ছাড়ার সময় ঘানার ডাগআউটের সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বেলিংহাম। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সতীর্থ মর্গান রজার্স তাকে টেনে সরিয়ে নেন। একই সময় ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজের সঙ্গেও তাকে কড়া ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়।
এরপর আরও বিতর্ক তৈরি হয় ঘানার ফরোয়ার্ড আইউর সঙ্গে তার কথোপকথনকে ঘিরে। কথা বলার সময় বেলিংহাম নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, যা নিয়ে শুরু হয় নতুন আলোচনা।
চলতি বিশ্বকাপেই ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, উত্তপ্ত বা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় যদি মুখ ঢেকে কথা বলেন, তাহলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারেন। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন আচরণ সন্দেহজনক বা আপত্তিকর কথোপকথনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এই নিয়ম অনুযায়ী এর আগেই প্রথম লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় তাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
তবে বেলিংহামের ক্ষেত্রে শাস্তি না হওয়ার কারণ হলো, জর্ডান আইউর সঙ্গে তার কথোপকথনটি উত্তপ্ত বা মারমুখী ছিল না। তাই নিয়মের আওতায় সেটিকে লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়নি।
ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কোলিনা আগে জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সাধারণ বা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনে মুখ ঢাকাকে সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে দাপট দেখালেও ইংল্যান্ড রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ীদের।
দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এল গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে ঘানা। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে মাঠে নামবে থ্রি লায়ন্সরা, ম্যাচটি শুরু হবে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত তিনটায়।