দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় আছে সেলেসাওরা। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বসেরা হতে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবারও আলোচনায় উঠেছে সেই একই প্রশ্ন; এবার কি অবশেষে ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের?
তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতে, দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ অন্য কোনো দেশ নয়, বরং নিজেদের ভেতরের মানসিক চাপ। তিনি বিশ্বাস করেন, মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপের কারণেই খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারছেন না।
রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আনচেলত্তি বলেন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মূল সৌন্দর্য হলো আনন্দ, স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে খেলোয়াড়রা পারফরম্যান্স নিয়ে এতটাই চাপে থাকছেন যে, তারা খেলার আনন্দই হারিয়ে ফেলছেন।
তার মতে, মাঠে ছোটখাটো ভুলও অনেক ফুটবলার বড় ব্যর্থতা হিসেবে নিচ্ছেন। আর সেই মানসিক চাপ পুরো দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তিনি ‘কালেক্টিভ রুটিন’ তৈরি করতে চান, যাতে চাপ কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর না পড়ে পুরো দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
আনচেলত্তি আরও পরিষ্কার করে বলেন, তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সাম্বা-স্টাইল ফুটবল পরিবর্তন করতে চান না। বরং সেই স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের গতি, শৃঙ্খলা ও কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে চান। তার লক্ষ্য এমন একটি দল গড়ে তোলা, যারা চাপের মুহূর্তেও নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারবে এবং বড় মঞ্চে মানসিকভাবে শক্ত থাকবে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল খেলবে ‘সি’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ শক্তিশালী মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা। এরপর তারা মুখোমুখি হবে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের।
বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে থাকলেও আসল চ্যালেঞ্জ আসবে নকআউট পর্বে। আর সেই জায়গায় মানসিক দৃঢ়তাই হতে পারে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি কিংবা দুর্বলতা। তাই আনচেলত্তির মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়াকে ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখছেন ফুটবলবিশেষজ্ঞরা।