মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্পেন ও মিশরের প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও মাঠের বাইরের ঘটনাই ছাপিয়ে গেছে পুরো ম্যাচকে। এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে খেলা এই ম্যাচে শুরু থেকেই উত্তপ্ত ছিল গ্যালারির পরিবেশ।
ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময়ই স্প্যানিশ সমর্থকদের একাংশ দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, গ্যালারি থেকে ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’। এমন মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগানও শোনা যায়! পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যখন মিশরের কিছু খেলোয়াড় মাঠে সিজদা দেন, তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার ভেসে আসে।
প্রথমার্ধজুড়েই এই ধরনের আচরণ চলতে থাকায় কয়েক দফায় সতর্ক করা হয় দর্শকদের। বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশেষ বার্তা দেখানো হয়, যেখানে উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। মাইকে বারবার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি। এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
ঘৃণামূলক আচরণকারীদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘যারা এসব করছে তারা কলঙ্ক। স্টেডিয়ামের অধিকাংশ সাধারণ দর্শক কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা ফুটবলের কেউ নয়। তারা শুধু ফুটবলের সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এদের সমাজ থেকে যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল।’
গোলহীন ম্যাচের চেয়ে তাই আলোচনায় উঠে এসেছে গ্যালারির এই অস্বস্তিকর ও নিন্দনীয় আচরণই, যা আবারও ফুটবলে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষের কালো দিকটিকে সামনে নিয়ে এল।