জেনিৎসার বিলিনো পোলি স্টেডিয়ামে গতকাল ৩১ মার্চ দিবাগত রাতটি যেন ভাগ্যই ফিরিয়ে নিল ইতালির কাছ থেকে। ১২ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরার যে স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আজ্জুরিরা, শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল ভাগ্যের পরিহাসে পেনাল্টি শ্যুটআউটের নির্মমতায়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের আসরে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
প্লে-অফ ফাইনালে শুরুটা অবশ্য ইতালির পক্ষেই ছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১ সমতায়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পেলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরু থেকেই এগিয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। প্রথম শটেই গোল করেন বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ। অন্যদিকে ইতালির হয়ে প্রথম শট নিতে এসে ব্যর্থ হন পিও এস্পোসিতো। দ্বিতীয় শটে দুই দলই গোল পেলেও তৃতীয় শটে আবার এগিয়ে যায় বসনিয়া, যেখানে মিস করেন ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে। চতুর্থ শটে গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আর তাতেই বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইতালি। তার ফলও পেয়ে যায় খুব দ্রুত। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড ময়েস কিন। এই গোলেই যেন দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইতালি। তবে সেই স্বপ্নে বড় ধাক্কা আসে প্রথমার্ধের শেষদিকে। ৪২ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। বসনিয়ার স্ট্রাইকার এডিন জেকোকে বিপজ্জনক জায়গায় ফাউল করায় রেফারি কোনো দ্বিধা না করে তাকে লাল কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় বিরতির আগেই চাপে পড়ে গাত্তুসোর শিষ্যরা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বসনিয়া একের পর এক আক্রমণ চালালেও ম্যান সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুমার দৃঢ়তায় গোল হজম এড়ায় ইতালি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একজন বেশি থাকার সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে ইতালির রক্ষণভাগকে। ম্যাচে মোট ১০টি শট রক্ষা করেন ম্যান সিটির এই গোলরক্ষক।
অবশেষে ৮২ মিনিটে সমতা ফেরে বসনিয়া। এডিন জেকো ও ডেমিয়রোভিচদের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে আসে সেই গোল। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দলই গোল করতে না পারলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও অচলাবস্থা কাটেনি, ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় খেলা। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে টাইব্রেকার, আর সেখানেই ভেঙে যায় ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্ন।