অনেকেরই মাংস খেলে, বিশেষ করে গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়ে থাকে। ঈদুল আজহার পর বেশি পরিমাণ মাংস খাওয়া হয়। যার কারণে এ সময় তারা অ্যালার্জিতে কষ্ট পেতে পারেন। যেকোনো বয়সেই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংসে অ্যালার্জি থাকলে পরবর্তী সময়ে অন্য প্রাণীর মাংসেও অ্যালার্জি হতে পারে।
তবে শুধু গরুর মাংসে অ্যালার্জি বলে আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়। সুস্থ থাকার জন্য গরুর মাংসের চর্বি ও লাল মাংস না খাওয়াই ভালো। সম্ভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু ওষুধ সংগ্রহ রাখবেন। যাতে গরুর মাংস খেলে চুলকানি মুক্ত থাকা যায়।
অ্যালার্জি নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন। এর মধ্যে রক্ত পরীক্ষা, সিরাম আইজিইর মাত্রা নির্ণয়, স্কিন প্রিক টেস্ট, বুকের এক্স-রে পরীক্ষা, প্যাচ টেস্ট ও স্পাইরোমেট্রি।
এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। যদি কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করার মাধ্যমে সহজেই অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যালার্জি ভেদে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে অ্যালার্জি উপশম করা যায়। অ্যালার্জি দ্রব্য থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। অনেকের ধারণা অ্যালার্জি একবার হলে আর সারবে না কিন্তু প্রথমদিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারেই সারিয়ে ফেলা যায়। অপরদিকে অবহেলা করলে এবং রোগ দীর্ঘসময় ধরে থাকলে চিকিৎসা একটু কঠিন হতে পারে।
অ্যালার্জি নিরাময়ে করণীয়:
প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার সময় কিছু ময়লা বইয়ের সেলফে জমে থাকে এবং জমে থাকা ময়লা অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। দু-একদিন পর পর বইগুলো নাড়াচাড়া করলে সেলফে থাকা ডাস্ট চলে যাবে।
বিছানার ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। প্রতিদিন উঠোনে বা বেলকনিতে আসা রোদে লেপ, কম্পল ইত্যাদি ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া ভালো। এতে রোদের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট মাইট মরে যায়।
এক সপ্তাহ পর পর ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা এবং জানালা পরিষ্কার করা উচিত। সেইসঙ্গে দরজা এবং জানালার পর্দা মাঝে মধ্যে ভালভাবে ধুতে হবে।
গোসলখানার জানালা খোলা রাখতে হবে। নিয়মিত গোসলখানার মেঝে, বাথটাব ও প্যান ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
রান্না ঘরের ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হতে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।
শিশুদের খেলনা, শোপিস, জুতা, ফ্যান, এসি, ঝাড়বাতি ইত্যাদিতে ধুলোবালি জমে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই এসব পরিষ্কার করতে হবে।
বাসায় পশুপাখি থাকলে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। পশুপাখি যে জায়গায় থাকে সেই জায়গাটা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই খাওয়াার পর উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দিতে হবে।