পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার শিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবারের (৩০ মে) এই ঘটনায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন সোনারপুরে একদল মানুষ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সংসদ সদস্য অভিষেককে লক্ষ্য করে পাথর, জুতা ও ডিম ছুড়ে মারে। এমনকি তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারারও চেষ্টা করা হয়।
এসময় বিক্ষোভকারীরা অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে।
মাত্র এক মাস আগেও যিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, সেই শীর্ষ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে এমন গণবিক্ষোভের ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ২৫ দিন পর এটিই ছিল তৃণমূল নেতার প্রথম কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি।
রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ নগর এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। শুক্রবার রাতে তার এই সফরের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের আগে পর্যন্ত যিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা পেতেন, সেই অভিষেককে সোনারপুরে গাড়ি থেকে নামামাত্রই ‘চোর, চোর’ স্লোগান শুনতে হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিষেক তার এসইউভি গাড়ি ছেড়ে একটি মোটরসাইকেলে ওঠেন। তবে সেটিও দ্রুত হামলার মুখে পড়ে।
পরে ছেঁড়া শার্ট ও মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মী ও ভবানীপুর থেকে আসা হাতেগোনা কয়েকজন তৃণমূল সমর্থকের বেষ্টনীতে হেঁটে সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে রওনা দেন অভিষেক।
তবে ঘটনাস্থলে সোনারপুরের স্থানীয় কোনো তৃণমূল নেতা বা কর্মীকে দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা যায়নি।
এসময় স্থানীয় এক নারী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি কেন এখানে এসেছেন? নিশ্চয়ই টাকা নিতে এসেছেন। পানিহাটিতে যখন চিকিৎসককে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হলো, তখন তিনি কেন সেখানে গেলেন না?’
একপর্যায়ে জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা কর্মীরা অভিষেককে কোনোমতে কামরাবাদ শরৎ সরণির কর্মকার বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, ‘তারা আমাকে মেরে ফেলতে চায়। প্রশাসন পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমি এই জায়গা ছাড়ব না। এই পরিবারের পাশ থেকে নড়ব না।
‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত নেই। পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড আছে। আমি এ বিষয়ে রাজ্যপাল এবং হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’