ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহ এবারও তুঙ্গে। বড় পর্দায় একসঙ্গে একাধিক নতুন সিনেমা মুক্তির ঘোষণা এসেছে আগেই। তবে মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে সামনে এলো উদ্বেগজনক তথ্য। দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স জানিয়েছে, এবার ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকা বেশিরভাগ সিনেমার ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্যাকেজ) এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে ঈদের প্রথম দিন থেকেই সব সিনেমা প্রদর্শন করা যাবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এবারের ঈদে মুক্তির আলোচনায় রয়েছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’, ‘মাসুদ রানা’, ‘পিনিক’, ‘অফিসার’, ‘তছনছ’ ও ‘দি ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’। যদিও শেষ মুহূর্তে মুক্তির তালিকা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ‘নাকফুলের কাব্য’। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কয়েকটি সিনেমার পোস্ট-প্রযোজনা ও কারিগরি কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আর সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ে ডিসিপি জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। অথচ এখনো বেশিরভাগ সিনেমার ডিসিপি আমরা পাইনি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। এটা সত্যিই হতাশাজনক।
তিনি জানান, কোনো সিনেমার ডিসিপি পেলেই সেটি সরাসরি প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হয় না। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সের সার্ভারে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়। শব্দ, দৃশ্য ও সার্ভারের সঙ্গে সামঞ্জস্য ঠিক আছে কি না, সেটি পরীক্ষা করা হয়। কারণ সামান্য কারিগরি ত্রুটিও পুরো প্রদর্শনীতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের ভাষায়, ডিসিপি সংক্রান্ত ত্রুটি থাকতেই পারে। কিন্তু সময়মতো এটি না পেলে আমাদের পক্ষে প্রদর্শনসূচি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয় না। এতে দর্শক ভোগান্তির পাশাপাশি পুরো প্রদর্শন ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়।
গত ঈদুল ফিতরের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তখন দেরিতে ডিসিপি জমা ও সার্ভার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঢালিউড তারকা শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ঈদের প্রথম তিন দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দর্শকের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা সিনেমাটি চালাতে পারিনি। অথচ সব দায় এসে পড়েছিল আমাদের ওপর। এবারও যদি একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার দায় আমরা নিতে চাই না।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে দর্শকদের আগ্রহও বাড়ছে দ্রুত। স্টার সিনেপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন অসংখ্য দর্শক প্রদর্শনসূচি জানতে যোগাযোগ করছেন। তবে ডিসিপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এতে শেষ মুহূর্তে অনলাইন টিকিট সার্ভারে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সিনেমা বাজার শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি এখন চলচ্চিত্র ব্যবসার সবচেয়ে বড় মৌসুমগুলোর একটি। তাই মুক্তির আগমুহূর্তে এমন কারিগরি অনিশ্চয়তা নির্মাতা, পরিবেশক, প্রেক্ষাগৃহ মালিক এবং দর্শক—সবার মধ্যেই বাড়িয়েছে উৎকণ্ঠা। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের এই কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে ঈদের প্রথম দিন থেকেই দর্শকরা কাঙ্ক্ষিত সিনেমাগুলো বড় পর্দায় দেখতে পারেন কি না।