বেহালার গলিতে ফিরল সৌরভ-ডোনার প্রেম কাহিনী!
কলকাতার বেহালার সেই পুরোনো পাড়া যেন হঠাৎ ফিরে গেছে নব্বইয়ের দশকে। ভোরবেলা রাস্তার ধারে চায়ের দোকান, স্কুল ড্রেস পরা এক কিশোর, বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই বেণির এক কিশোরী, চারপাশ দেখে মনে হচ্ছিল কোনো পুরোনো প্রেমের গল্প যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আসলে শুরু হয়েছে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনভিত্তিক ছবি ‘দাদা’র কলকাতা অংশের শুটিং।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেহালার বীরেন রায় রোডে সৌরভের বাড়ির সামনেই ধারণ করা হয়েছে তাঁর আর ডোনা গাঙ্গুলীর কিশোর বয়সের প্রেমের দৃশ্য। স্থানীয় বাসিন্দারাও আবেগে ভেসেছেন। কারণ তাঁদের অনেকেই বাস্তবে সেই সময়ের সাক্ষী ছিলেন। কেউ বলছেন, স্কুল শেষে সৌরভ কীভাবে ডোনার দিকে তাকাতেন, কেউ আবার মনে করছেন সেই সময়ের চিঠি আদান-প্রদানের গল্প। পুরো এলাকা যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য সময়ের পেছনে চলে গিয়েছিল।
ছবির পরিচালনা করছেন বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে দৃশ্যের খুঁটিনাটি দেখছেন। শুধু রাস্তা বা বাড়ি নয়, আশপাশের পরিবেশও যেন ঠিক সেই সময়ের মতো লাগে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সৌরভের বেহালার বাড়ির অনেক অংশ মুম্বাইয়ের বিশাল সেটে তৈরি করা হয়েছে। পরিচালক নাকি বাড়ির দেয়াল, বারান্দা, এমনকি গাছপালার ছবিও তুলে নিয়ে গিয়েছেন, যেন বাস্তবের সঙ্গে কোনো অমিল না থাকে।
এই ছবিতে সৌরভের চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজকুমার রাও। অনেক দিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। শুরুতে অন্য কয়েকজন অভিনেতার নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত রাজকুমারকেই বেছে নেওয়া হয়। চরিত্রের জন্য তিনি নাকি আলাদা প্রস্তুতিও নিয়েছেন। বাঁ-হাতি ব্যাটিং অনুশীলন থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার টান শেখার কাজও করেছেন তিনি। কারণ নির্মাতারা চান, পর্দায় যেন সত্যিকারের সৌরভকেই দেখতে পান দর্শক।
ডোনার চরিত্রেও থাকছেন এক বাঙালি অভিনেত্রী। যদিও শুরুতে মিমি চক্রবর্তীর নাম শোনা গিয়েছিল, পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলায়। এখন জানা গেছে, অভিনেত্রী তানিয়া মানিকতলাকে নেওয়া হয়েছে ডোনার ভূমিকায়। অন্যদিকে সৌরভের মা নিরূপা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন অপরাজিতা আঢ্য। সম্প্রতি শুটিং সেটে তাঁকে লাল পাড় সাদা শাড়িতে দেখা গেছে। আর সৌরভের বাবা চণ্ডী গাঙ্গুলীর চরিত্রে রয়েছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।
ছবিতে শুধু ক্রিকেট নয়, সৌরভের পারিবারিক জীবন, প্রেম, সংগ্রাম আর উত্থানের গল্পও দেখানো হবে। শোনা যাচ্ছে, তাঁর ক্রিকেটজীবনের শুরু থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়কে তুলে ধরা হবে। থাকবে ইডেন গার্ডেন্স, দুখীরাম কোচিং সেন্টার, ইস্টবেঙ্গল মাঠসহ কলকাতার নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এমনকি লন্ডনেও কিছু অংশের শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে কলকাতায় শুটিং শুরু হতেই ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার শৈশবের সৌরভকে মনে করে গল্প করছেন। অনেকের কাছেই এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক টুকরো নস্টালজিয়া। কারণ সৌরভ গাঙ্গুলী শুধু একজন ক্রিকেটার নন, বাঙালির আবেগেরও বড় অংশ।
নির্মাতারা চাইছেন ছবিটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে। সে কারণেই প্রায় ২০০ সদস্যের বিশাল ইউনিট কাজ করছে কলকাতায়। আইপিএল শেষ হওয়ার পর ইডেন গার্ডেন্সেও বড় অংশের শুটিং হবে বলে জানা গেছে। সেখানে সৌরভের ক্রিকেট জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। তবে এখন থেকেই ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ মাঠের “দাদা” এবার আসছেন বড় পর্দায়, আর সেই গল্পে থাকবে প্রেম, লড়াই, পরিবার আর এক বাঙালি ছেলের বিশ্বজয়ের কাহিনি।.
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, এবিপি আনন্দ, দ্য টেলিগ্রাফ, টাইমস অব ইন্ডিয়া