ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বামীর বাড়িতে সাকিনা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী সৌদিপ্রবাসী সাকিবকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে সদর উপজেলার রাধিকা এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিনা সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামের পূর্বপাড়ার হুমায়ুন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবর সূত্রে জানা যায়, সকালে সাকিনার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন স্বামী সাকিব। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে সাকিনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাকিনার মৃত্যুর পর তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
সাকিনার বড় বোন খাদিজা জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে সৌদিপ্রবাসী সাকিবের সঙ্গে সাকিনার বিয়ে হয়। বিয়েতে চার লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালো চললেও পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাকিনার সঙ্গে তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরোধ দেখা দেয়।
খাদিজার অভিযোগ, ঠিকমতো কাজ না করার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময় সাকিনাকে নির্যাতন করা হতো। ঘটনার দিনও স্বামী ও শাশুড়ি তাকে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সাকিনার দুই কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং গলায় আঘাতের চিহ্নও ছিল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সাকিনার পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে সাকিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।