শরীয়তপুর পৌরসভায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও আবার সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১৬ আগস্ট) সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পর স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শরীয়তপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজ। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় চার কোটি টাকা। গত জুনে সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বা কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন জেলা শহরে যাতায়াত করে। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা শরীয়তপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন গাজী বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পরপরই টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পুনরায় সংস্কার করা হবে।’