লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারীতে প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে এক দরিদ্র রিকশাচালকের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। জমিতে থাকা বিভিন্ন ফলজ গাছ কেটে এবং টিনের বেড়া ভেঙে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে মান্দারী বাজারসংলগ্ন মালি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকেও জমি দখল ঠেকাতে পারেননি রিকশাচালক গণেশ দাস।
এঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় জুয়েলার্স ব্যবসায়ী বিজয় কুরী ও তার দুই ছেলে পিয়াস কুরী ও পিকলু কুরী।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিজয় কুরীর পক্ষে অর্ধশতাধিক লোক বিতর্কিত জমির পাশে অবস্থান করছেন। তারা জমি দখলের উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি টিনের ঘর সেখানে এনে বসিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এ সময় জমির মালিকানা দাবিদার রিকশাচালক গণেশ দাস, তার আত্মীয় প্রতিমা রানী ও পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
গণেশ দাস অভিযোগ করে বলেন, বিজয় কুরী প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তার অভিযোগ, জমিতে থাকা টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং নারিকেল, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পরে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, দখল ঠেকাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন। তার দাবি, পুলিশ তিনবার এসে কাজ বন্ধ করে দিলেও প্রতিবারই পুলিশ চলে যাওয়ার পর ফের দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
গণেশ দাসের দাবি, রতনপুর মৌজার আরএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের নামজারি জমাখারিজ ১১৯২ নম্বর খতিয়ান এবং ৩২৮৩ নম্বর দাগের ৮ শতাংশ জমি তারা ক্রয়সূত্রে মালিক। কয়েক বছর ধরে বিজয় কুরী জমিটি নিজের কেনা সম্পত্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার আরও অভিযোগ, এর আগেও ওই জমি থেকে সবজি তুলতে গেলে বিজয় কুরী ও তার ছেলেরা হামলা চালিয়ে তাদের পরিবারের কয়েকজনকে আহত করেন। সম্প্রতি তাদের ঘায়েল করতে বিজয় কুরী নিজেই ঘরে আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন গণেশ। তবে প্রশাসনের তদন্তে ঘটনাটি সাজানো বলে বেরিয়ে আসে।
জমির আরেক দাবিদার প্রতিমা রানী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজয় কুরীর জমিটির ওপর নজর রয়েছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও দখলে নিতে না পেরে এখন ভাড়াটে লোকজন এনে জমিতে ঘর বসিয়ে জোরপূর্বক দখল নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয় কুরী। তিনি বলেন, জমিটি তার কেনা সম্পত্তি। প্রতিমাদের জমি অন্য পাশে। একসময় জায়গাটি ডোবা ছিল এবং তিনি বালু দিয়ে ভরাট করার পর প্রতিপক্ষ জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে।
বিজয় কুরী আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে মালিকানা তার পক্ষে থাকায় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মানছে না।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমূল সাহা বলেন, যতটুকু জানেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে সালিশ হয়েছে এবং সেখানে বিতর্কিত জমিটি বিজয় কুরীদের বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ ওই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব বলেন, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে দখলের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।