বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) মারা গেছেন। নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হনুফা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত ৩ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তিনজনকেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতি ও ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, আহতদের চিকিৎসার সব খরচ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে। হনুফা বেগমের মরদেহ বরিশালে নিয়ে আসার খরচও প্রশাসন বহন করবে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, আহতদের অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইতি ও ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার প্রশাসন বহন করবে।
এদিকে ৩ আগস্টের বিস্ফোরণের কারণ ও বাড়িতে কীভাবে বিস্ফোরকটি রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরিত বস্তুটি হাতে তৈরি বোমা ছিল। পটকার বারুদ ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এতে স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, বোমা তৈরিতে অভিজ্ঞ কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, নাশকতা কিংবা আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।