শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নলতা গ্রামে গেলে চোখে পড়ে ব্যতিক্রমী এক স্থাপনা। আল কোরআন একাডেমির চত্বরে পবিত্র কোরআনের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি পথচারী থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে। প্রতিদিনই এটি দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের নলতা গ্রামে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আল-কোরআন একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পরপরই এর চত্বরে নির্মাণ করা হয় পবিত্র কোরআনের আদলে এই স্থাপনা। নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। ধীরে ধীরে এর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে স্থাপনাটির সৌন্দর্য এখনো অটুট রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এটি দেখতে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মুসলমানদের জীবন পরিচালনার অন্যতম প্রধান নির্দেশিকা পবিত্র আল-কোরআন। সেই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে ‘আল-কোরআন একাডেমি’। প্রতিষ্ঠানের নাম ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চত্বরে পবিত্র কোরআনের আদলে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
শুধু ভাস্কর্য নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোও নজরকাড়া। রয়েছে দুটি সুবিশাল ভবন ও একটি তিনতলা মসজিদ। পাঁচটি বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোরআনের আদলে নির্মিত স্থাপনাটি দেখতে আসা লিয়াকত ছৈয়াল বলেন, ‘আমার মেয়ে এখানে পড়াশোনা করে, তাই প্রায়ই এখানে আসা হয়। কোরআনের এই স্থাপনাটি দেখলে আমার ভেতরে অন্যরকম শান্তি অনুভব হয়। আমার মেয়েও এখানে পড়তে এসে এটি দেখে আনন্দ পায়। আমি চাই, এ ধরনের স্থাপনা আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হোক।’
আল-কোরআন একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য দেখে থাকি। আমাদের কাছে আল-কোরআনের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মুসলিম দেশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনের শিক্ষা ও মূল্যবোধকে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কোরআনের প্রতি অনুরাগ তৈরি হতে পারে।’
স্থানীয়দের কাছে আল-কোরআন একাডেমির এই স্থাপনাটি এখন নলতা গ্রামের একটি পরিচিত আকর্ষণ। দূর-দূরান্ত থেকে কেউ এলাকায় এলে অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির এই ব্যতিক্রমী স্থাপনা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।শিক্ষা, ধর্মীয় পরিবেশ ও নান্দনিক স্থাপনার সমন্বয়ে আল-কোরআন একাডেমির এই প্রাঙ্গণ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের মানুষের কাছেও আগ্রহের একটি জায়গা হয়ে উঠেছে।