চলতি বছর মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে বাদাম উত্তোলন, রোদে শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী তারা।
জানা গেছে, পদ্মার চরের উর্বর বেলে মাটি ও পলি মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করেই এখানে ভালো ফলন পাওয়া যায়। শুধু নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। গত বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত ও আগাম বর্ষায় বাদামের ব্যপক ক্ষতি হয়েছিল। এ বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাদাম তুলছিলেন শওকত মিয়া। নাগরিক প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘এইবার ফলন ভালো হইছে, দামও ভালো। শেষ পর্যন্ত এরকম দাম থাকলে সব চাষিরা লাভবান হতে পারব। আগামীতেও বাদাম চাষ করব।’
রোজিনা বেগম নামের এক কৃষাণী বলেন, ‘গত বছরও ফলন ভালো হইছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব বাদাম পানি তলিয়ে গেছিল। ওই বছর আমরা লাভ করতে পারি নাই। এইবার আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো, বৃষ্টিতেও সমস্যা হয় নাই।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে শিবচর উপজেলায় প্রায় ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চর জানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেড়েছে এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। বাজারে মণ প্রতি ৬-৮ হাজার টাকা দরে বাদাম বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং চরাঞ্চলের উপযোগী মাটির কারণে এবছর এই অঞ্চলে বাদাম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। পরবর্তী আবাদের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।