মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্বামীর নির্যাতনের শিকার এক অন্তঃসত্ত্বা নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার চাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আল-আমিনকে (৩২) গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। উপজেলার পশ্চিম রাজদিয়া এলাকায় বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে।
৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক নারী ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং তার নেশাগ্রস্ত স্বামী সারারাত ধরে তাকে মারধর করেছেন। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না। প্রতিবেশীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তিনি জরুরি সহায়তা চান।
ফোনকলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল সুমাইয়া জাহান ও বুলবুল আহমেদ। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় জানানো হয়। পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করেন ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপাচার এসআই ইন্দু জ্যোতি রায়।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার একটি দল দ্রুত পশ্চিম রাজদিয়া এলাকায় পৌঁছে নির্যাতিত নারীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্বামী আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া আক্তার পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত মাদক রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
সিরাজদিখান থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, জরুরি মুহূর্তে ৯৯৯-এ করা একটি ফোনকল, দ্রুত সমন্বয় ও তাৎক্ষণিক অভিযানের ফলে নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।