মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা প্রশাসন। রোববার (৩ মে) কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের মধ্যেও এক বন্দি বাবাকে শেষ বারের মতো তার মৃত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এ সময় কারাগারে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।
জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল। যিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ গত শনিবার (২ মে) এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আকস্মিক এ মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিকে, কারাগারে থাকা বাবা দুলালও সন্তানের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে কারবন্দি থাকা বাবাকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার আকুতি জানান দুলালের স্ত্রী ও পরিবার।
পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স)-এর মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। নিরাপত্তা বিধি মেনে সেখানে বন্দী দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেয়া হয়।
কারাগারের গেটে সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছেলের নিথর দেহ দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দীদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতনমহল বলছে, অপরাধের শাস্তি ভোগ করলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ায়।