দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ইস্যুতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট কার্ড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫.৩৯ মিলিয়ন। কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, তাদের কার্ড সংখ্যা প্রায় ১৪.৮৯ মিলিয়ন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিস্তৃত এটিএম নেটওয়ার্ক, সহজলভ্য ডেবিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সমন্বয়—এই তিন কারণে ডাচ-বাংলা ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ও প্রবাসী গ্রাহকভিত্তি বড় ভূমিকা রেখেছে।
কার্ড ইস্যুর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্ড সংখ্যা প্রায় ১.৭১ মিলিয়ন। এরপর রয়েছে পূবালী ব্যাংক, তাদের কার্ড সংখ্যা প্রায় ১.৪৩ মিলিয়ন।
বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি ব্যাংকও প্রতিযোগিতায় রয়েছে। সিটি ব্যাংকের কার্ড সংখ্যা ১.৩৯ মিলিয়ন, ইউসিবির ১.২৭ মিলিয়ন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ১.২৬ মিলিয়ন।
ব্যাংকাররা বলছেন, দেশে কার্ড ইস্যুর বড় অংশই ডেবিট কার্ড নির্ভর। বেতন ও সরকারি লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা এবং এটিএম ব্যবহারের প্রসার এ দুটি কারণ ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড এখনো মূলত শহরকেন্দ্রিক ও নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত।
এদিকে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলো এখন কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট, ভার্চুয়াল কার্ড এবং ই-কমার্স নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক প্রিমিয়াম গ্রাহক ও আন্তর্জাতিক কার্ড সেবায় জোর দিচ্ছে।
তবে খাতটিতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সাইবার জালিয়াতি, গ্রাহক সচেতনতার ঘাটতি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে পিওএস মেশিনের সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তরের এই পর্যায়ে কার্ড সেক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী কয়েক বছরে ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।