বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ছাত্রীদের আবাসিক বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সীতারা বেগম হলে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
হল সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন ক্লাসে ছিলেন এবং কেউ কেউ রুমে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন সুযোগ পেয়ে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের বিভিন্ন তলার খোলা কক্ষগুলোতে ঢুকে চুরি করে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বোরকা ও হিজাব পরিহিত এক নারী কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হলের ভেতরে চলাফেরা করছেন এবং একাধিক কক্ষে উঁকি দিচ্ছেন। হল থেকে বের হওয়ার সময় তার পরিহিত হিজাব পরিবর্তন করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় ৪৮তম ব্যাচের টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরত্রিকা নন্দীর একটি ল্যাপটপ, ৪৬তম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট ব্যাচের তাসনিমা ফেরদৌস উপ্তির একটি মোবাইল ফোন এবং ৪৭তম ব্যাচের আরফিন সুলতানা নওরীনের কক্ষ থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরত্রিকা নন্দী বলেন, ‘অনেক কষ্টে জমানো টাকায় কেনা আমার একমাত্র ল্যাপটপটি চুরি হয়ে গেছে। এখন ল্যাবের কাজও বন্ধ হয়ে যাবে, যা পড়াশোনায় বড় প্রভাব ফেলবে।’
তাসনিমা ফেরদৌস উপ্তি বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে ফোনটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে বুঝতে পারি এটি চুরি হয়েছে। বিষয়টি শুধু আর্থিক ক্ষতির নয়, মানসিকভাবেও কষ্টদায়ক। এছাড়াও একই সময় আমার রুমমেটের ব্যাগ থেকেও টাকা চুরি হয়েছে।’
শিক্ষার্থীরা জানান, হলকে তারা একটি নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে মনে করতেন। কিন্তু এমন ঘটনায় সেই নিরাপত্তাবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হলের অফিস কর্মকর্তা আফিফা হিমি বলেন, ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।’
হল প্রভোস্ট ড. দিলারা হোসেন বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের মূল প্রবেশপথে আইডি যাচাইয়ের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ সহজ হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, প্রশাসন আরও সক্রিয় হলে ভুক্তভোগীদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা যেত।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।