ভারতের আগামী দিনের রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি এক ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দলসহ ভারতের সার্বিক রাজনীতিতে নতুন করে ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সোলাপুরের জনসভায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, বিআর আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো যোগ্য নাগরিক দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান শাসকরা সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নারীদের হিজাব পরায় বাধা দিচ্ছে। কিন্তু আমার স্বপ্ন—এমন একদিন আসবে যখন একজন হিজাব পরা নারীই ভারতের নেতৃত্ব দেবেন।’’
ওয়াইসি আরও যোগ করে বলেন, ঘৃণা চিরস্থায়ী হয় না এবং ভালোবাসার মাধ্যমেই একদিন এই বিষাক্ত রাজনীতির অবসান ঘটবে। তিনি স্বীকার করেন যে, হয়তো তিনি নিজে সেই দিনটি দেখে যেতে পারবেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে এটি অবশ্যই সম্ভব হবে।
ওয়াইসির এই মন্তব্যের পরপরই বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘‘ওয়াইসি যদি সত্যিই নারীর ক্ষমতায়ন এবং হিজাব পরিহিতাদের উন্নতি চান, তবে সবার আগে নিজের দল এআইএমআইএম-এর সভাপতি পদে কোনো হিজাব পরিহিত নারী বা পিছিয়ে পড়া ‘পাসমান্দা’ মুসলিমকে বসিয়ে দেখান।’’
অন্যদিকে, শিবসেনার মুখপাত্র শায়না এনসি বলেন, ভারত অবশ্যই নারী প্রধানমন্ত্রী চায়, তবে তা ধর্ম বা জাতের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ওয়াইসির উচিত আগে তার দলের সংসদ সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া, তারপর প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখা।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এই মন্তব্য যেমন তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে, তেমনি বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে ‘হিজাব’ বনাম ‘যোগ্যতা’র এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনগুলোতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।