ওয়াই-ফাই রাউটার থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের ধীরগতি বর্তমানে একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় আমরা ইন্টারনেটের স্পিড কম হলে সার্ভিস প্রোভাইডারকে (আইএসপি) দোষ দিই বা দামী প্ল্যান কিনি। কিন্তু আসল সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার ঘরের ভেতরে রাউটারের অবস্থানের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে জেনে নিন কোনো খরচ ছাড়াই কীভাবে ওয়াই-ফাই স্পিড বাড়াবেন:
রাউটার কি ঘরের এক কোণে?
অধিকাংশ মানুষ রাউটারকে ঘরের এক কোণে বা জানালার পাশে রাখেন। এটি একটি বড় ভুল। রাউটার সিগন্যাল চারদিকে সমানভাবে ছড়ায়।
সমাধান: রাউটারকে সবসময় ঘরের মাঝখানে বা কেন্দ্রীয় অবস্থানে রাখুন। এতে সিগন্যাল ঘরের প্রতিটি কোণে সমানভাবে পৌঁছাবে।
দেয়াল ও বাধা থেকে দূরে রাখুন
ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দেয়াল, কাচ বা আসবাবপত্র ভেদ করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে কনক্রিটের দেয়াল সিগন্যাল শুষে নেয়।
সমাধান: রাউটারকে কোনো আলমারির ভেতরে বা দেয়ালের একদম গা ঘেঁষে না রেখে খোলা জায়গায় রাখুন।
উচ্চতা নির্ধারণ করুন
মেঝেতে বা নিচু টেবিলে রাউটার রাখলে সিগন্যাল নিচের দিকে বাধা পায়। রেডিও তরঙ্গ সাধারণত নিচের দিকে এবং চারদিকে প্রবাহিত হয়।
সমাধান: রাউটারকে অন্তত ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতায় কোনো সেলফ বা ওয়াল মাউন্টে রাখুন। এতে সিগন্যাল কোনো বাধা ছাড়াই অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির হস্তক্ষেপ
টিভি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফ্রিজ বা ব্লুটুথ স্পিকারের পাশে রাউটার রাখলে এদের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ওয়াই-ফাই সিগন্যালে হস্তক্ষেপ করে।
সমাধান: এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে রাউটারকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখুন।
অ্যান্টেনার পজিশন ঠিক করুন
আপনার রাউটারে যদি একাধিক অ্যান্টেনা থাকে, তবে সেগুলো সব একদিকে কাত করে রাখবেন না।
সমাধান: একটি অ্যানে্টনা উল্লম্বভাবে এবং অন্যটি অনুভূমিকভাবে রাখুন। এতে আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইল যে পজিশনেই থাকুক না কেন, সিগন্যাল পেতে সুবিধা হবে।
অতিরিক্ত বোনাস টিপস:
রিবুট করুন: সপ্তাহে অন্তত একবার রাউটার বন্ধ করে আবার চালু করুন। এতে ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং স্পিড বাড়ে।
সঠিক ব্যান্ড নির্বাচন: রাউটারে যদি ২.৪ গিগাহার্টজ এবং ৫ গিগাহার্টজ দুটি অপশন থাকে, তবে কাছের ডিভাইসের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যবহার করুন। এতে স্পিড অনেক বেশি পাওয়া যায়।