ভারতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। রাজ্য সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলার সিমারিয়া এলাকার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি রাঁচি থেকে দিল্লির পথে ছিল।
চাত্রা জেলার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সাতজনের সবাই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বিমানটি রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাচ্ছিল।’
রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে তা সিমারিয়ার বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় একটি ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।
সাব-ডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) শুভম খাণ্ডেলওয়াল নিহত সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করে পিটিআইকে জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন ভিভেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্ত, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।
বিমানটিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অনন্ত সিনহা জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমারের (৪১) জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রোগীর এক স্বজন গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা তাকে সড়কপথে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু চিকিৎসক বলেছিলেন, এটা সম্ভব নয়। পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে। যদি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে নেওয়া যেতে পারে। তাই আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরে আমরা সংবাদে দেখি, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রচণ্ড বজ্রধ্বনি হচ্ছিল। ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার বলেন, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজের বিচক্রাফট সি৯০ মডেলের বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটের পর কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ ও রাডার সংযোগ হারায়। তখন বিমানটি বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। বিমানটি মেডিকেল ইভাকুয়েশন ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।
ডিজিসিএ আরও জানায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমানটি রাঁচি–দিল্লি রুটে মেডিকেল ইভাকুয়েশন (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) ফ্লাইট পরিচালনার সময় ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলার কাসারিয়া পঞ্চায়েতে বিধ্বস্ত হয়। বিমানে দুজন ক্রু সদস্যসহ মোট সাতজন ছিলেন। বিমানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি থেকে উড্ডয়ন করে। সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে যোগাযোগ ও রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।