হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভূকম্পনের সংকেত এবং নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রসুয়াগাধিতে ধ্বংসাত্মক ঢেউ পৌঁছানোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র সাত মিনিট। তবে বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহ পাওয়া গেছে এর প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভাটিতেও।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নেপাল থেকে ভেসে গেছে বলে ধারণা করা আরও তিনটি মরদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জে গণ্ডক নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
ভারতের সীমান্তবর্তী নেপালের জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ১৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূকম্পনের প্রাথমিক সংকেত রেকর্ড করা হয় বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে।
সীমান্তরক্ষীদের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত সরু গিরিখাত দিয়ে ধেয়ে আসার কয়েক মুহূর্ত আগে মানুষজন দৌড়ে পালাচ্ছেন। এরপর স্রোতের তোড়ে ভবন ও যানবাহন ভেসে যায়।
সাত মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত ব্যবধান নির্দেশ করে কত দ্রুত দুর্যোগটি ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো বার্তা দেওয়ার সরকারি সুযোগ এতে ছিল না।
বন্যা নেমে ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করার পরই নেপালের বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তথ্য পায়।
নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা সৌহার্দ্য যোশি বলেন, বন্যার স্রোত সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপালে প্রবেশ করে এবং প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে স্যাব্রুবেসিতে পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, ‘তিব্বতে বন্যার পানি জমতে শুরু করার সময়ই যদি আমরা খবর পেতাম, তাহলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতো।’