নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। তবে এই কম্পনটি হয়েছিল ৫০ একর আয়তনের একটি হিমবাহের বিশাল খণ্ড প্রায় ৪ হাজার ফুট নিচে হিমালয়ের একটি উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ার ফলে।
এতে লাংটাং লিরুং পর্বতের ঢালে ব্যাপক ক্ষয় হয় এবং তুষারধসের সৃষ্টি হয়।
বরফের ওই বিশাল খণ্ড আকারে ২৮টি ফুটবল মাঠের সমান এবং বাকিংহাম প্যালেসের চেয়ে ১১ একর বড়। সেটি ধসে পড়ার পর একের পর এক ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটতে থাকে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ধারাবাহিক দুর্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই ধসের ফলে সৃষ্ট প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার ঢেউয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৩৯২ জন নিহত হয়েছেন। ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ ১ হাজার ৪৬৮ জনের সন্ধান গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, দ্রুতগতির তুষারধসের ধ্বংসাবশেষ লেন্দে খোলা নদীতে গিয়ে পড়ে এবং সেখানে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। এতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও পানি জমতে থাকে।
একপর্যায়ে পানির চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে, বাঁধটি ভেঙে পড়ে। তখন যে বন্যার সৃষ্টি হয়, খাড়া পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় তা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ঘণ্টায় ১০০ মাইলেরও বেশি গতিতে প্রবাহিত সেই স্রোত পথে নুড়ি পাথর, বিশাল শিলাখণ্ড ও গাছের গুঁড়ি ভাসিয়ে নেয়।
ধসের ১৩ মিনিট পর নেপাল সময় বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে রসুওয়া জেলার স্যাব্রুবেসির একটি পানির স্তর পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে তথ্য আসা বন্ধ হয়ে যায়। এর ১৫ মিনিট পর ৯টা ৫ মিনিটে তিব্বত থেকে ভোতে কোশি নদীতে বড় ধরনের বন্যার খবর পায় কর্তৃপক্ষ।
৩০ মিনিটের মধ্যেই নদীর পানির উচ্চতা ৩০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের এই ভয়ংকর স্রোত পথে যা পেয়েছে, তা-ই ধ্বংস করতে সক্ষম ছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার কারণে হিমবাহের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলে যাওয়ায় বরফের ওই বিশাল খণ্ডটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। এতদিন এই জমাট মাটি অনেকটা আঠার মতো বরফের খণ্ডটিকে আটকে রেখেছিল।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে গত তিন দশকে নেপালের পাহাড়গুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। উপগ্রহের ছবিতেও দেখা গেছে, দুর্যোগের আগের ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণ তুষার গলে গিয়েছিল।
বর্ষার সময়ে এই ধসের ঘটনা ঘটলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত এতে ভূমিকা রেখেছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।