নেপালে উজানে আকস্মিক বন্যার জেরে ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও উত্তরাখন্ডের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা।
নেপালের রুসুওয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে গতকাল বুধবার সকালে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত পর্যটক, যাদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়।
ভূমিকম্প বা হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ার মতো বিভিন্ন কারণে হিমালয়ের নদীগুলোতে আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে নেপাল, ভারত ও চীনের হিমালয় অঞ্চলের উচ্চভূমিতে অন্তত ১ হাজার ১৫টি বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে বুধবার সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যার কারণে নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে।
এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের গঙ্গা অববাহিকার গন্ডক এবং উত্তর বিহারের বিভিন্ন নদীও রয়েছে।
তিব্বত থেকে উৎপন্ন ভোতে কোশি নদীর অধিকাংশ পানি এসে মেশে ত্রিশূলি নদীতে, যা গন্ডক নদীতে রূপ নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বুধবার ভারী বৃষ্টিপাত ও নেপালের বিভিন্ন ব্যারেজের কপাট খুলে দেওয়ার কারণে উত্তর প্রদেশের ঘাঘরা ও রাপ্তি এবং বিহারের কোসি নদীতে পানির প্রবাহ আরও মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত কয়েক হাজার কিউসেক পানি প্রবেশের আশঙ্কায় বিহার সরকার এরই মধ্যে পাঁচটি নিম্নাঞ্চলের জেলা পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারন, গোপালগঞ্জ, সাপল ও মুজাফফরপুরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বাল্মীকিনগর ব্যারেজ থেকে পানির প্রবাহ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কিউসেক।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে এই প্রবাহ বেড়ে ৩ লাখ কিউসেকে পৌঁছাতে পারে।
পূর্ব সতর্কতা হিসেবে বাল্মীকিনগর ব্যারেজের (যার সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ৮ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক) ৩৬টি কপাটই ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।