নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলি নদীতে নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে ভারতের কৈলাস-মানস সরোবরের বহু তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।
ওই দুই নদীতে গতকাল বুধবার সকালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে পানির উচ্চতা ৩০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে গেছে। ভেসে গেছে বসতি, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও তীর্থযাত্রীদের চলাচলের পথ।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। আর চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনো ৫৭৯ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ২৮টি দেশের ৪৬৬ জন বিদেশি এবং ১১৩ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয়।
নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৭ জন প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। ভয়াবহতার মাত্রা বোঝা যায় চিতওয়ানে ১৫০ কিলোমিটার ভাটিতে ৩৩টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায়।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রবল স্রোত মরদেহগুলোকে অনেক দূর পর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন ৫৪ জন মার্কিন নাগরিক, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ২৪ জন কানাডীয়, ১৯ জন মালয়েশীয় ও আটজন দক্ষিণ কোরীয়।
নিখোঁজদের অনেকেই ছিলেন কৈলাস-মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ভারতীয়সহ প্রায় ৪০০ জন বন্যার সময় নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন।
উদ্ধারকর্মীরা প্রতিকূল আবহাওয়া, কাদা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং নদীতে পানির উচ্চতার কারণে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছেন। একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।