বুধবার আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। বন্যার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নেপাল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতটি জেলা থেকে ৭২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাসুয়ায় একটি, নুওয়াকোটে ১১টি, ধাদিংয়ে ১৮টি, চিতওয়ানে ২৮টি, গোরখায় ৯টি, তানাহুনে চারটি এবং নাওয়ালপরাসি ইস্টে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাসুয়ার তিমুরে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৩২ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পটির উদ্যোক্তা বিজয় মোহন ভট্টরাই।
তিনি জানান, প্রকল্পের ২৫ জন প্রকৌশলী, চালক ও রান্নাঘরের কর্মী এবং একটি টানেলের ভেতরে কাজ করা আরও ৩৫ শ্রমিক বুধবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
ভট্টরাই বলেন, ‘প্রকৌশলী, চালক ও রান্নাঘরের কর্মীসহ ২৫ জন ছিলেন। আরেকটি দলে ৩৫ জন টানেলের ভেতরে কাজ করছিলেন। সকাল থেকে তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি।’
তিনি জানান, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছিল এবং দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।
রাসুয়ার তিমুরে অবস্থিত কাস্টমস অফিসের ১৫ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কার্যালয়টির প্রধান রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা।
ভোটেকোশি নদীর বন্যায় নয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। এসব ব্যাংকের প্রায় ২৬ কর্মীর এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে নেপাল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।