ইরানের বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ৭৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে ৫৮০ জনই স্থলবাহিনীর সদস্য। এছাড়া মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮ জন সেনাসদস্য।
এই পরিসংখ্যান সংঘাতের ক্রমবর্ধমান মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে।
পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে আহত ৭৫৭ জন মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে ৫৮০ জনের বেশি স্থলবাহিনীর সদস্য। এছাড়া আহতদের মধ্যে নাবিক ৮৬ এবং বিমানবাহিনীর ৬৪ ও নৌবাহিনীর ১৯ সদস্য রয়েছেন।
পেন্টাগনের ওই ডেটাবেজে আরও বলা হয়, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
আরব নিউজ আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পেন্টাগনের ডেটাবেজে আহতদের অনেককেই অপারেশন এপিক ফিউরি নামে পরিচিত এই মার্কিন সামরিক অভিযানে হতাহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে পেন্টাগন তার হতাহতের ডেটাবেজে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন এক শ্রেণি যুক্ত করে।
পেন্টাগনের ভাষ্য, মে মাসে অপারেশন এপিক ফিউরির মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়। এরপর ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে হতাহতদের নতুন এই শ্রেণির অধীনে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
যুদ্ধে মার্কিন সেনারা কীভাবে আহত হয়েছে বা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ পর্যন্ত খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগই মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিস্ফোরণের ধাক্কায় এ ধরনের আঘাত সাধারণত হয়ে থাকে।
এদিকে সামরিক অভিযানে আর্থিক ব্যয়ও ক্রমেই বাড়ছে।
গত মাসে আইনপ্রণেতাদের মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সেই প্রথম প্রকাশ্যে সংঘাতে ব্যয়ের কোনো হিসাব দেয় পেন্টাগন।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।